দন্ত চিকিৎসায় রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট
বিভিন্ন বয়সেই নানা কারণে অনেকের দাঁতে সমস্যা দেখা যায়। অনেক সময় অবহেলাজনিত কারণে সেই সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। ক্ষয় হয় যেতে পারে দাঁত কিংবা অসহ্যকর ব্যথা। এমন ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন হয় রুট ক্যানেল ট্টিটমেন্ট। মূলত দাঁতকে সংরক্ষণ করার জন্য এই চিকিৎসা করা হয়। আসুন জেনে নেই রুট ক্যানেল সম্পর্কে-
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট কী?
দাঁত যে মাড়ির সঙ্গে লেগে থাকে, সেটি একটি শেকড়ের সঙ্গে লেগে থাকে। দাঁতের মাড়ির শেকড়ের একটি ক্যানেল থাকে। ওই ক্যানেলের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ বা প্রদাহ হয়ে থাকে, দাঁতের ভেতরে যে পাল্প টিস্যু বা দন্ত্যমজ্জা বলি, সেটার চিকিৎসা করাকেই সাধারণত রুট ক্যানেল বলা হয়। এ চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমন নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে দাঁতকে সংরক্ষণ করা এবং পুনরায় কর্মক্ষম করা হয়।
কখন রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়?
১) দাঁতে গভীর ক্ষত থেকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলে
২) কান এবং মাথার অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে
৩) ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেলে
৪) মাড়ির কোনো অংশ দিয়ে পুঁজ পড়লে
৫) ঠাণ্ডা বা গরম খাবারে ব্যথা বেড়ে গেলে
৬) দাঁত কোনো কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভেতরের মজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হলে
রুট ক্যানেল করার আগে প্রয়োজন এক্স-রে করা
রুট ক্যানেল করার আগে দাঁতের কী অবস্থা, সেটি দেখার জন্য এক্স-রে করার প্রয়োজন হয়। কেননা দাঁতের অবস্থা বুঝে এই চিকিৎসা করাতে হয়।
দাঁতে ব্যথা যে কারণে হয়
দাঁতের শক্ত আবরণ ক্ষয়ে গিয়ে ভেতরের মজ্জা বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়ে গেলে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। যার ফলে দাঁতে ব্যথা অনুভূত হয়।
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট এ যা করা হয়?
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে দাঁতের ক্ষতিগ্রস্ত মজ্জার চিকিৎসা করে তাতে কৃত্রিম মজ্জা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। এতে দাঁতটি প্রদাহমুক্ত হয় এবং দাঁতের ব্যথা নিরাময় হয়। ফলে দাঁত সুস্থ হয়ে ওঠে।
যে সময়ে ফিলিং দেয়া হয়
দাঁতের ক্ষয় হয়ে যাওয়া অংশ পুনর্গঠন করে কর্মক্ষম করার জন্য ফিলিং দেয়া হয় ।
ক্যাপ/ক্রাউন যে সময় প্রয়োজন হয়
রুট ক্যানেল চিকিৎসার পর অনেক সময় দাঁতটি ভঙ্গুর হয়ে যায়। আর তাই দাঁতের উপর ক্রাউন/ক্যাপ বসিয়ে দাঁতটিকে সংরক্ষণ করতে হয়।
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট না করে যে সময় ফিলিং করানো হয়
দাঁতের ক্ষয় বেশি হয়ে যদি মজ্জা পর্যন্ত চলে যায় তাহলে রুট ক্যানেল এর প্রয়োজন হয়। আর দাঁতের ক্ষয় যদি কম হয় এবং মজ্জা পর্যন্ত চলে না যায় তখন ফিলিং করানো হয়।
রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্ট এ ব্যথা হয় কিনা?
দাঁতের কাজ করার সময় নার্ভ সাময়িক অবশ/অনুভূতিহীন করার জন্য যে ইঞ্জেকশন দেয়া হয় সেটিতে সামান্য ব্যথা পেলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত উপায়ে সম্পন্ন হয়। সুতারং ভয় নেই রুট ক্যানেল ট্রিটমেন্টে।
রুট ক্যানেল করা না হলে যে ধরনের জটিলতা হতে পারে
রুট ক্যানেল করা না হলে দাঁতটি অবশ্যই ফেলে দিতে হবে। কারণ, ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতটি পাশের দাঁতটিরও ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, গর্ত হতে হতে গোড়ার দিকে চলে গেছে। তখন এই সংক্রমিত দাঁতটি আর টেকানো যায় না। তখন দাঁত ফেলে দিতে হবে। এর অনেক ঝামেলা রয়েছে। না ফেলে দিলে সমস্যা বাড়তেই থাকবে।
যে কারণে রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তা থেকে মুক্ত থাকার উপায়
শুরু থেকেই সবকিছুর প্রতিরোধ করা দরকার। যদি আমরা ওরাল হাইজিন (মুখের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা) মেনে চলি, নিয়মিত দুবার দাঁত ব্রাশ করি, দিনে একবার অবশ্যই ফ্লসিং করি, তাহলে দাঁত ভালো থাকবে। আমরা সাধারণত ফ্লসিং করি না এবং ব্রাশও করি খুবই আলসেমি করে। আমাদের দেশে যেটি প্রচলিত, সকালবেলা উঠে দাঁত ব্রাশ করা, সেটি ঠিক নয়। আসলে রাতে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করতে হয় এবং সকালবেলা নাশতার পর দাঁত ব্রাশ করতে হয়। এ ছাড়া বছরে দুবার ডেন্টাল সার্জনের কাছে যাওয়া উচিত। নিয়মিত যদি চেকআপে যাওয়া হয় তখন দেখা যায়, সমস্যা শুরু হওয়ার আগে চিকিৎসা করতে পারব। তখন আর সমস্যা হবে না। আমরা অনেক ভালো থাকতে পারব।
লিখেছেন – ডা. রাহেমিন সিপতি
বিডিএস, পিজিটি (বিএসএমএমইউ)
ইন্টারন্যাশনাল ফেলোশিপ কোর্স ফ্রম থাইল্যান্ড
ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জন (স্পার্ক অব টুথ)
